আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো বাইরের কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন মিয়ানমারের বন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একই সঙ্গে সামরিক সরকার প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে হাস্যোজ্জ্বল ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে, যা তাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করে। পরে তার সাজা কমিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়।
এতদিন সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় তার ছেলে কিম অ্যারিস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মায়ের জীবিত ও সুস্থ থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি আইসিআরসির প্রতিনিধি আর্নো দ্য বাকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সু চির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করেই এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা সু চির স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রকাশিত ছবিগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন কিম অ্যারিস। তিনি বলেন, ছবিতে তার মাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে অতীতে সামরিক সরকারের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের নজির থাকায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা মিয়ানমারের সামরিক সরকার এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের কাছে বিমান হামলা বন্ধ, গৃহযুদ্ধ নিরসনে সংলাপ শুরু এবং অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইসিআরসিকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া শুধু একটি মানবিক পদক্ষেপই নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় সামরিক সরকারের কৌশলে সম্ভাব্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তবে এই পরিবর্তন বাস্তবে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দেয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply